মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১১ জুলাই ২০২০

"করোনাকালে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার” বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশন তারিখ : 2020-07-11

অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করছে। বিশ্বের উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম দিকে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতির পিছনে বড় অবদান রয়েছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের। কারণ দেশে এখন কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ যাদের বয়স ১৫- ৫৯ বছরের মধ্যে । গত একদশকে দারিদ্র্যের হার ২০.৫০ শতাংশে ও উচ্চ দারিদ্যের হার ১০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে কর্মক্ষম মানুষের এই শ্রেণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যে সুবর্ণ সময় পার করছে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে তার শতভাগ সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।

মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি আজ শনিবার ঢাকায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ এবং ইউনাইটেড নেশনস্ পপুলেশন ফান্ড (ইউএনএফপিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কোভিড- ১৯ এর কারণে দিবসটি ভিন্নভাবে উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, এ বছর ৩১ তম বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে ‘ মহামারি কোভিড- ১৯ প্রতিরোধ করি, নারী ও কিশোরীর সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে। অত্যন্ত সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য নিয়ে জনসংখ্যার উন্নয়ন ও বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে দিবসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাখবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, করোনার সময়ে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে যার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী ও শিশু সহিংসতার স্বীকার হচ্ছে। তবে করোনার সময়েও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হেল্পলাইন ১০৯, মনোসামাজিক ও আইনি সেবা প্রদানের মাধ্যমে তাদের পাশে রয়েছে। একই সাথে করোনাকালেও নারী ও শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালসহ দেশব্যাপী ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩ হাজারের বেশী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা উল্লেখ করেন, শিশু মৃত্যু হ্রাসে সাফল্যের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন এবং জেন্ডার সমতায় প্লানেট ৫০৫০ ও এজেন্ট অব চেঞ্জ এবং ইপিআই কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে ভ্যাক্সিন হিরো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২০ এর উদ্বোধন পর্বে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আকতারুজ্জামান সূচনা বক্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ’র কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিভ ড. আশা তরকেলশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সাদেকা হালিম।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা তার বক্তব্যে আরও বলেন, বিশ্বের ৯০ ভাগ নারী অর্থনীতির অপ্রাতাষ্ঠানিক ক্ষেত্রে কাজ করে যেখানে চাকুরির নিশ্চয়তা কম। কোভিড- ১৯ তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। করোনা মহামারির প্রভাবে অর্থনীতি যে ঝুঁকিতে পড়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক লাখ কোটি টাকার বেশী ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এসব প্রণোদনা থেকে আমাদের দেশের নারী উদ্যোক্তা ও কর্মজীবি নারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন

প্রজনন স্বাস্থ্য নারীর অধিকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, একটা মেয়ের কখন বিয়ে হবে, কখন সন্তান হবে এগুলো তাঁর অধিকার। কিন্তু অনেক দেশেই নারীরা সে অধিকার প্রয়োগ করতে পারছেনা। তেমনি ভাবে নারীদের প্রথম বিয়ের বয়স আঠারো বছর হলেও সেটা সবসময় কার্যকর হচ্ছেনা। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার নেতৃত্বে ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বাল্য বিয়ে হ্রাস ও জেন্ডার সমতা অর্জনের মাধ্যমে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল সৃষ্টি করেছে।

আজকের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়নসহযোগীসহ দেশ-বিদেশের দুইশত পঞ্চাশেরও বেশী কর্মকর্তা ও গবেষক ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে যোগদান করে। উদ্বোধনপর্ব শেষে টেকনিক্যাল সেশনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।


Share with :

Facebook Facebook